ওর কারনেই আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে, ক্ষোভ ঝাড়লেন বিজয়

২০১২ সালের শেষদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয় এনামুল হক বিজয়ের। অভিষেকের পর নিজেকে প্রমাণ করে জাতীয় দলে থিতু হয়েছিলেন। তবে চোট আর চোটপরবর্তী ফর্মহীনতার কারণে দল থেকে একসময় বাদ পড়তে হয়। তৎকালীন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরাগভাজন হওয়ায় দলে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছিল বিজয়ের।

বিজয়ের ফর্ম তার পক্ষে কথা বলছিল কি না তা পরিসংখ্যানই বলে দিবে। কিন্তু বিজয় মনে করেন, জাতীয় দলে চার বছর টানা খেলার পর তার জায়গা হারানোর কারণ হাথুরুসিংহে। বিজয়ের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে তাকে ‘স্বার্থপর’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন হাথুরুসিংহে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত উপাধি তাকে আরও বিষণ্ণ করে তোলে।

সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে বিজয় বলেন, ‘সবার তখন ভালো সময় যাচ্ছিল… তামিম ভাই, মুশফিক ভাই, সাকিব ভাই, আমার- সবার। এই সময়টায় সবাই চেষ্টা করে নিজের পারফরম্যান্সে মনোযোগ রাখতে। মাশরাফি ভাই সবসময় আমাদের সামলাতেন।

তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন আমাকে সাপোর্ট করার জন্য, সবসময় তার সাপোর্ট পেয়েছি। কিন্তু কোচ আসলে কোনো সাপোর্ট করেনি সত্যি বলতে। আমাকে যদি একটু সাপোর্ট করত, বোঝাত…’ উপমহাদেশের (শ্রীলঙ্কা) কোচ হলেও হাথুরুসিংহের সাথে খেলোয়াড়দের যোগাযোগে ভাষাগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে দাবি বিজয়ের। একইসাথে জানালেন, হাথুরুসিংহের বলা ‘স্বার্থপর’ শব্দটা কতটা আঘাত করেছিল তাকে।

এছাড়া খেলোয়াড়দের সাথে হাথুরুসিংহে নাকি বাজে ভাষাও ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, ‘সবাই জানে বিদেশি কোচদের সাথে ভাষাগত একটা সমস্যা থাকে। তাই বোঝাপড়া ওরকম হয় না। আমরা যেটা বলতে চাচ্ছি কোচ সেটা বুঝতে পারছে কি না বা কোচ যেটা বলছে আমরা সেটা বুঝতে পারছি কি না।

এই জিনিসটা সবসময় একটা ঝামেলায় থাকে যদি বোঝাপড়া ভালো না হয়। আমার কাছে মনে হয় হাথুরুসিংহের ঐ ট্যাগলাইনটা (স্বার্থপর) খুব খারাপ ছিল। খেলোয়াড়দের জন্য খুব খুব খুব খারাপ ভাষা ব্যবহার করে। এই জিনিসগুলো শুনতে খুব খারাপ লাগে। মনের মধ্যে ঐ জিনিসটা থেকে যায়।

ব্যাটিং করতে গেলে দুশ্চিন্তা থাকে ড্রেসিংরুম থেকে কেউ কিছু বলছে কি না, কোচ আরেকজনকে কিছু বলল কি না।সেও গ্লানি তাই এখনও ভুলতে পারেননি বিজয়। তার ভাষায়, ‘আমি এত ভালো অবস্থায় আছি, সবাই এত সাপোর্ট করে, সিনিয়ররা এত সাপোর্ট করে,

সবাই এত ভালোবাসে এরপরও কোচ যদি এরকম ট্যাগ লাগায় তাহলে মনের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা আসতেই পারে।এতে আমার খেলায় বাজে প্রভাব পড়েছে। আমি নাকি সেলফিশ। একটা বলে চার বা ছক্কা মারার পর পরের বলে মনে হচ্ছে রান না হলে কোচ আমাকে বাজে কিছু বলতে পারে।’

কোচের প্রিয় হতে বিজয় তাই স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিং শুরু করেন, ‘উইকেট হয়ত ১১০ স্ট্রাইক রেটের না, ৭০ স্ট্রাইক রেটের, কিন্তু আমার স্ট্রাইক রেট থাকত ১১০। তখন দ্রুত রান তুলতে গিয়ে দ্রুত আউট হয়ে গেছি। …ঐ শব্দটা খুব বাজে ট্যাগলাইন। এটা অনেকের কাছে অনেক নেতিবাচক ভাবনা তৈরি করেছে। এই বিষয়টা নিয়ে সবসময় আপসেট থাকি।’

হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় প্রভাব রেখেছিলেন। বোর্ডের অনেক সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়ত তার মতামতের। এমন প্রভাবশালী কোচের বক্তব্যের কারণে বিজয় বেশ সমালোচিত হয়ে পড়েন। কঠিন সেই সময়ে সমর্থকদের সমর্থন না পেয়ে হতাশা গ্রাস করেছিল বিজয়কে।

তিনি বলেন, ‘আমি এনামুল হক বিজয়, দেশের হয়ে এতদিন খেলেছি, অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি, ‘এ’ দল-অ্যাকাডেমি দলের অধিনায়কত্ব করেছি, জাতীয় দলে চার বছর ধারাবাহিকভাবে খেলেছি, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৭টা শিরোপা জিতেছি, এতকিছু করার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটের গল্প বলছি কারণ আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করেছি। ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছি, ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছি।

সেখানে এতকিছু দেশের জন্য করেছি, এরপরও যদি মানুষ ট্যাগলাইন মেরে দেয় স্বার্থপর… আমি মনে করি মানুষের উচিৎ ছিল আমাকে সাপোর্ট করা। আমি জানি না কেন করেনি। তবে আমার পরিবার ও খেলোয়াড়দের মত সাপোর্ট করা উচিৎ ছিল।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*