এমপি ও ছাত্রলীগ নেতাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা!

বরিশালের বানারীপাড়ায় সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা ও তার স্থানীয় প্রতিনিধি বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল ২৩ জুন বুধবার বিকালে দলীয় কার্যালয়ে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তি’যো’দ্ধা গোলাম সালেহ্ মঞ্জু মোল্লার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তাদের অ’বাঞ্ছিত ঘোষণাকরা হয়।

সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুবলীগের সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক জাকির হোসেন সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলার বাইশারী ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি তাজেম আলী হাওলাদারের পক্ষে ও দলীয় নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তি’যো’দ্ধা শ্যামল চক্রবর্ত্তীকে হা’রাতে তার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া,

তাজেম আলীর সঙ্গে ছবি তোলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদারকে দিয়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন ও অনুদান বিতরণ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাদের অবা’ঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসুচি ও অনুষ্ঠানে তাদের দুজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা করা হয়।

এ ঘোষণার সঙ্গে এসময় উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বানারীপাড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা,

সহ-সভাপতি ও চাখার ইউপির বিদায়ী চেয়ারম্যান খিজির সরদার, যুগ্ম-সম্পাদক ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘরামী, সদস্য ডা. খোরশেদ আলম সেলিম, পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাখারের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু,

সহ-প্রচার সম্পাদক ও বিশারকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শান্ত, সৈয়দকাঠি ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান মৃধা, বাইশারী ইউপির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্তী, সলিয়াবাকপুর ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সিদ্দিক মাষ্টার, উদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ আহম্মেদ ননী, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক এমএ ওহাব প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তাজেম আলী হাওলাদার আমার বাবা। তারপরও তার কিংবা দলীয় প্রার্থীর কারো পক্ষেই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। এদিকে বি’দ্রোহী প্রার্থী তাজেম আলী হাওলাদারকে মদদদানের অভিযোগ অস্বীকার করে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা বলেন,

ফোরকান আলী হাওলাদারকে দিয়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন ও অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে, কারণ তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। দলের বাইরের কাউকে দিয়ে তো আমি কাজ করাচ্ছি না। তাজেম আলী হাওলাদারের সঙ্গে তার ছবি থাকা প্রসঙ্গে বলেন, ওই ছবি তিনি (তাজেম) ইউপি নির্বাচনে বি’দ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার পূর্বের। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার ছবি থাকাটা স্বাভাবিক।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*