উধাও হয় বিমান, ভারতের বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ভয়াবহ এক রহস্য!

বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। এ এমনই এক গোলকধাঁধা যা মানুষকে চিরকাল বিস্মিত করেছে। জাহাজ হোক বা বিমান— এই অঞ্চলে একবার ঢুকলে তার হদিস মিলত না।আটলান্টিক মহাসাগরের তিন বিন্দু দ্বারা সীমাবদ্ধ ত্রিভূজাকৃতির এই এলাকাকে ডেভিল’স ট্রায়াঙ্গল-ও বলা হয়।

যে তিনটি প্রান্ত নিয়ে কাল্পনিক এই ত্রিভূজ তৈরি হয়েছে তার এক প্রান্তে রয়েছে আমেরিকার ফ্লো’রিডা, এক প্রান্তে পুয়ের্তো রিকো এবং অন্য প্রান্তে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ। ১৯৪৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একাধিক রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে। এই কাল্পনিক ত্রিভূজের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা বহু জাহাজ এবং বিমান রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে। কোনওটির ধ্বংসাবশেষ পরে উদ্ধার হয়েছে, কোনওটির আবার আজ পর্যন্ত কোনও খোঁজ মেলেনি।

এক সময় মনে করা হত এটি আসলে অশুভ শক্তির ডেরা। সে কারণেই একে ডেভিল’স ট্রায়াঙ্গল বলা হত। কিন্তু পরবর্তীকালে এর রহস্যের সমাধান হয়। এ সমস্ত রহস্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তির খোঁজ মেলে। কিন্তু জানেন কি বিশ্বে এ রকম আরও দু’টি ত্রিভূজ রয়েছে? দুটিই আবার এশিয়ায়। এর মধ্যে একটি রয়েছে ভারতে। ভারতের রহস্যজনক ওই ত্রিভূজকে বলা হয় ‘ভারতের বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’।

শুধু তাই নয়, চীনের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরেও এ রকম একটি কাল্পনিক ত্রিভূজ রয়েছে। তাকে আবার ‘চীনের বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’ বা ‘ড্রা’গন ট্রায়া’ঙ্গল’ বলা হয়। ‘ভারতের বারমুডা ট্রায়া’ঙ্গল’ যে তিন কাল্পনিক বিন্দু নিয়ে গঠিত হয়েছে তার একটি বিন্দু রয়েছে উড়িষ্যার আমারদা রোড এয়ারফিল্ডে, দ্বিতীয় বিন্দু রয়েছে ঝা’ড়খন্ডের চাকুলিয়ায় এবং তৃতীয় বিন্দুটি রয়েছে বাঁকুড়ার কাছে পিয়ারবোদায়।

এই তিনটি কাল্পনিক বিন্দু যোগ করলে একটি ত্রিভূজ তৈরি হয়। এই কাল্পনিক ত্রিভূজই হল ভারতের রহস্যময় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। গত ৭৪ বছর ধরে এই ত্রিভূজের রহস্যের কোনও কিনারা হয়নি। এই অঞ্চল ভারতীয় বিমান বাহিনীর অধীন হওয়ায় এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশও করা হয়নি সেভাবে। যদিও ভারতীয় বিমান বাহিনী দাবি করেছিল, প্রতিটি দুর্ঘ’টনা’রই তদন্ত হয়েছে।

এই অঞ্চলে অন্তত ১৬টি বিমান দুর্ঘ’টনা ঘ’টেছে। বেশির ভাগই যু’দ্ধ’বিমান। প্রাণ গি’য়েছে অন্তত ২৫ জনের।উড়িষ্যার আমারদা রোড বি’মানঘাঁ’টি গড়ে উঠেছিল স্বাধীনতার আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধে’র শেষের দিকে। ১৯৪০ সালে ৩ কোটি টাকা খরচ করে গড়ে উঠেছিল এই বিমা’নঘাঁটি।

৬০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই ঘাঁটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু দ্বিতীয় বি’শ্বযু’দ্ধের সময় অন্যতম ব্যস্ত বিমানঘাঁ’টি ছিল এটি। উড়িষ্যার আমারদা রেল স্টেশনের খুব কাছে থাকার জন্য এই বিমানঘাঁটির নাম রাখা হয় আমারদা রোড এয়ারফিল্ড, যা উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ জেলার রাসগোবিন্দপুর গ্রামের কাছে রয়েছে।

১৯৪৪ সালের ৪ মে প্রথম দু’র্ঘটনা ঘটে এই অঞ্চলে। আমেরিকার লিবারেটর যু’দ্ধবি’মান এবং হার্ভার্ড দি হাভিল্যান্ড বিমানের মুখোমুখি সং’ঘ’র্ষ হয়। দুই বিমানের ৪ জন সদস্য মা’রা যান। এর ৩ দিন পর আরও একটি দু’র্ঘটনা ঘটে। ১০ জনকে নিয়ে উড্ডয়নের ২০ মিনিটের মধ্যেই ধ্বং’স হয়ে যায় একটি বি’মান। এর এক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি বিমান দু’র্ঘটনা ঘটে। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর আরও একটি যু’দ্ধ’বিমান রহ’স্যজনকভাবে ধ্বং’স হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘট’নাটি ঘটে ১৯৪৫ সালে। ব্রিটিশ রয়্যাল যু’দ্ধবি’মান বি-২৪ লিবারেটর এবং অন্য আরও দুই যু’দ্ধবি’মানের সং’ঘ’র্ষ হয়। এইভাবে একাধিক দুর্ঘ’টনা ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত শেষ দুর্ঘট’নাটি ঘটে ২০১৮ সালে। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই দু’টি বিষয় একই ছিল। প্রথমত, বিমানগুলোর মধ্যে কোনও যা’ন্ত্রিক গোল’যোগ ছিল না এবং দ্বিতীয়ত, আবহাওয়াও পরিষ্কার ছিল।আমারদা বিমা’নঘাঁটি ঝাড়’খণ্ডের খুব কাছে অবস্থিত। ঝাড়খণ্ডের জাদু’গোরার কাছে ইউরেনিয়ামের খ’নি রয়েছে।

ইউরেনিয়াম একটি তেজ’স্ক্রিয় মৌল। এর তেজস্ক্রিয়তার ফলে আশেপাশের যেকোনও বৈদ্যুতিন য’ন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই এলাকার মধ্যে প্রবেশ করলেই বিমানের র‌্যাডার কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সেই কারণে যাবতীয় দু’র্ঘটনা ঘ’টেছে বলে মনে করা হয়। যদিও এর প্রকৃত কারণ আজও অজানাই রয়ে গিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*