ইতিহাস গড়ার দিনেও বিতর্ক! নো বলে আউট !

রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ভারতীয় ব্যাটিং ব্রিগেডের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে গিয়েছিল। সৌজন্যে পাকিস্তানের তরুণ জোরে বোলার শাহিনশাহ আফ্রিদি। তিনি রোহিত শর্মা, কেএল রাহুল এবং বিরাট কোহলির উইকেট শিকার করেন। এই ম্যাচে পাকিস্তান ভারতকে ১০ উইকেটে পরাস্ত করে। বিশ্বকাপে এই প্রথমবার ভারতকে হারাল পাকিস্তান।

এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। তবে একটি বিশেষ ছবি ইতিমধ্যেই নেট পাড়ায় যথেষ্ট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, যে বলটায় রাহুলকে বোল্ড করেছিলেন আফ্রিদি, সেটা নাকি নো বল ছিল। তাঁর পা দাগের বাইরে বেরিয়ে যায়। আর সেকারণেই নেট নাগরিকরা এই ঘটনার জন্য মাঠে উপস্থিত আম্পায়ারকেই অভিযোগের কাঠগড়ায় তুলেছেন।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কী হয়েছিল ঘটনাটি? রবিবাসরীয় ম্যাচে যথেষ্ট প্রত্যাশা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার কেএল রাহুলের উপরে। ইতিপূর্বে আইপিএল টুর্নামেন্টে যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করেছিলেন রাহুল। আশা ছিল, আজও তাঁর ব্যাট থেকে তেমনই কোনও ঝকঝকে ইনিংস বেরিয়ে আসবে। কিন্তু, ২.১ ওভারে তিনিও শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে যান। তিনি ৮ বলে ৩ রান করলেন।

এরপর যে পাকিস্তানের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল, তা চোখ বন্ধ করে বলা যেতেই পারে। বলটির বিশ্লেষনে যদি আমরা যাই, ১৪১ কিলোমিটার গতিবেগে বলের লাইনে যেতে পারলেন না রাহুল। শাহিনের ডেলিভারি মাটিতে পড়ার পর কিছুটা হলেও ভিতরের দিকে আসে। রাহুল ভেবেছিলেন বলটা হয়ত বাইরের দিকে বেরোবে। কিন্তু, সেটা হয়নি। ফলস্বরূপ ছিটকে গেল উইকেট। রাহুল আউট হতেই আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠতে শুরু করে।

টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বাবর আজম। মাত্র ৬ রানের মধ্যে জোড়া উইকেট হারায় ভারতীয় ক্রিকেট দল। শূন্য রানেই LBW হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন রোহিত শর্মা। তাঁর পিছু নেন কেএল রাহুলও। সূর্যকুমার যাদব একটি করে বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারির দৌলতে ১১ রান করলেও হাসান আলির বলে উইকেটরক্ষক মহম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফিরে যান।

তবে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আরও একবার বেরিয়ে এল অধিনায়কোচিত হাফ সেঞ্চুরি। বিরাটের ৪৯ বলে ৫৭ রানের দৌলতে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান তোলে।ম্যাচের পর শাহিন আফ্রিদি বললেন, ‘আমি খুব ভালো করেই জানতাম, যদি শুরুর দিকে কয়েকটা উইকেট আমরা তুলে নিতে পারি, তাহলে গোটা দলের কাছেই কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। আমার লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব বল সুইং করানো।

এই উইকেটে খুব বেশি একটা সুইং পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু, সেখানেও আমি নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দিয়েছিলাম। আমার মতে নতুন বলে খেলার তুলনামূলকভাবে কিছুটা হলেও কষ্টকর ছিল। ফলে এই জয়ের পিছনে বাবর এবং রিজওয়ানের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। বিশ্বকাপে প্রত্যেকটা বিপক্ষ দলই যথেষ্ট কঠিন। আমরা এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আশা করছি, ফাইনাল পর্যন্ত আমরা যেতে পারব।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*