আমির হামজার স্বাধীনতা পুরস্কার বাতিল

সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত হওয়া ‘বিতর্কিত ব্যক্তি’ মো. আমির হামজার পুরস্কার (ম’রণোত্তর) বাতিল করেছে সরকার। শুক্রবার সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।গত মঙ্গলবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১০ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।

এরপর সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া আমির হামজাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উঠে। তার পুরস্কার বাতিলের মাধ্যমে এবার ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাধীনতা পুরস্কার ৯টিতে দাঁড়াল। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ম’রণোত্তর পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক আমির হামজার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামে। ওই গ্রামসহ সারাজেলার মানুষের কাছে তিনি পালাগানের শিল্পী কিংবা কবি হিসেবে পরিচিত। তবে বরিশাট গ্রামে ১৯৭৮ সালে শাহাদত ফকির নামে একজন কৃষক এবং শিল্পী নামে আড়াই বছরের একটি শিশু হ-ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনায় সা’জাপ্রাপ্ত আ’সামি।

সর্বশেষ ২০০৭ সালেও স্থানীয় একটি গ্রাম্য মা’রামা’রির ঘ’টনায় তিনি আ’সামি ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।এ ঘটনায় তারা দুই ভাইসহ মোট ৬ জনের কা’রাদ’ণ্ড হয়। আট বছর জেল খাটার পর ৯১ সালের দিকে বিএনপি সরকার গঠন করলে মাগুরার মন্ত্রী মজিদুল হকের সহায়তায় বেরিয়ে আসেন তারা। ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ সাধারণ ক্ষমা পান এই আমির হামজাও।

আমির হামজার ছেলে আসাদুজ্জামান সরকারি কর্মকর্তা। খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন তিনি। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, তার বাবা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন ঘটনাটি সত্য।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালেও সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেটি বাতিল করেছিল সরকার।ওই বছর অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এসএম রইজ উদ্দিন আহম্মদকে এই পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছিল।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*