আমার রাষ্ট্রপতি হওয়ার ইচ্ছা ছিল: সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত

দেশের সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা-সংগ্রাম থেকে শুরু করে বাঙালির প্রতিটি অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। কেমন আছেন জানতে চাইলেই তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালা অনেকটা ভালো রেখেছেন।

৮৮ বছর অনেক লম্বা সময়। এই সময়ে বেঁচে আছি, এটাও একটা বড় প্রাপ্তি। রোগ-শোক থাকবেই। তারপরও অনেকটা ভালো আছি। মন্ত্রী থাকাকালে সরকারের কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন- এমন প্রশ্নে বলেন, সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছি। শেখ হাসিনা আমার উন্নয়নের একটা বড় শক্তি। যে শাসন করে, তার সঙ্গে সম্পর্ক মধুর না হলে কাজ করা কঠিন।

আমি সেদিক দিয়ে অনেকটা ‘সাকসেসফুল’। দেশের অর্থনীতি আপনার হাত ধরেই অনেকটা এগিয়ে গেছে, বর্তমান অর্থনীতি কেমন- জানতে চাইলে বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদের সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, এখন আর তখন। এই দুই সময়ের মধ্যে অনেকটা ফারাক আছে।

আমি যে ধারাবাহিকতা রেখে এসেছি, তা ধরে রাখা গেলে তেমন বেগ পোহাতে হবে না। যদি না বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ সামনে এসে না দাঁড়ায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার খোঁজখবর নেন কিনা- এমন প্রশ্নে বলেন, আগেই বলেছি, মধুর সম্পর্ক না হলে অনেক কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।

তার সঙ্গে আমার অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক। তিনি সব সময় আমার শারীরিক খোঁজখবর নেন। শুনেছিলাম, আপনি রাষ্ট্রপতি হবেন, এটি নিয়ে আপনার কোনো দুঃখ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়া আমার একটা মনোবাসনা ছিল। কিন্তু না হওয়াতে কোনো ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। সবকিছুই একটা নিয়মে হয়ে থাকে।

আপনি সত্যিকার অর্থেই একজন আলোকিত মানুষ- এমন কথা বলতেই মুচকি হেসে বলেন, আলোকিত করার চেষ্টা করেছি। আমার নির্বাচনী ইশতেহারেই ছিল ‘আলোকিত সিলেট’।এখনকার সিলেট আর আগের সিলেট কেমন দেখছেন- এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়ে বলেন, সময় অনেক কিছু পরিবর্তন করে।

শুধু সিলেট নয়, সারাদেশেই পরিবর্তন হয়েছে। আগে আমার চুল ছিল কালো, এখন সাদা হয়েছে- এটাই বাস্তবতা। তবে অনেক পরিবর্তন, এটি দেখে অনেকটা ভালো লাগে। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সংবর্ধনার জবাবে মুহিত বলেন, নিজের জন্মস্থানে এমন একটি সম্মাননা লাভ গৌরবের।

আমি সিলেটের মানুষ। এটা একটা গর্বের বিষয়। মুহিত বলেন, সিলেটের পরিবেশেই আমার জন্ম। আমার বেড়ে ওঠা। আমি এখানে জন্ম হওয়ার কারণে গর্ববোধ করি। এখান থেকে অনেক গুণীর জন্ম হবে। আজকে সিলেট নগরে আমি একজন অতিথি। এটাও একটা গর্বের বিষয়।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*