আফিফ-মিরাজের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি বাংলাদেশের

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে ব্যাট হাতে মাঠে টিকতেই পারেনি টাইগার ব্যাটাররা। প্রোটিয়া বোলার তোপে ২০০ রানের আগেই শেষ হয়ে গেল টাইগারদের ইনিংস। রোববার জোহানেসবার্গের ওয়ানডার্সে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান করে বাংলাদেশ।

শুরুতেই ফেরেন তামিম ইকবাল। বাড়তি বাউন্সের জন‍্য লুঙ্গি এনগিডির ডেলিভারি ঠিক মতো খেলতে পারলেন না তামিম ইকবাল। ব‍্যাটের সোল্ডারে লেগে উঠে গেল সহজ ক‍্যাচ। ব‍্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মুঠোয় জমালেন কেশভ মহারাজ।তামিমের পর সাকিব আল হাসানকেও দ্রুত হারাল বাংলাদেশ। কাগিসো রাবাদার বল লেগে ঘুরানোর চেষ্টা করেন সাকিব।

বাড়তি বাউন্সের জন‍্য ঠিক মতো খেলতে পারেননি, ব‍্যাটের কানায় লেগে ক‍্যাচ যায় কাভারে। একটু সরে গিয়ে লাফিয়ে মুঠোয় জমান কাইল ভেরেইনা। ৬ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি সাকিব। উইকেট হারালেও, বলের বাউন্স ও মুভমেন্ট বুঝে দেখেশুনেই খেলছিলেন লিটন। কিন্তু রাবাদার ভেতরে ঢোকা বাউন্সারে ধরা পড়লেন তিনি।

ইনিংসের অষ্টম ওভারের প্রথম বলটিই খানিক টেনে খাটো লেন্থে করেন রাবাদা। হালকা সুইং করে ভেতরে ঢুকছিল সেই ডেলিভারি। বলের লাইন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও বাঁচতে পারেননি লিটন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসে।

বাড়তি বাউন্সের সঙ্গে কিছু বল নিচুও হচ্ছে। তাই সারাক্ষণ দ্বিধায় থাকতে হচ্ছে ব‍্যাটসম‍্যানদের। দ্বিধা নিয়ে ব‍্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি ইয়াসির আলি চৌধুরি। কাগিসো রাবাদার বাড়তি বাউন্সে সহজ ক‍্যাচ দিয়েছেন এই মিডল অর্ডার ব‍্যাটসম‍্যান। ব‍্যাটের কানায় লেগে সহজ ক‍্যাচ যায় ব‍্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে।

অসংখ‍্য ম‍্যাচে ইনিংস মেরামত করে বাংলাদেশকে বাঁচানো মুশফিকুর রহিমও ব‍্যর্থ এবার। ওয়েইন পার্নেলের বল ভুল লাইনে খেলে হলেন এলবিডব্লিউ। বাঁহাতি পেসারের লেগ স্টাম্পে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে আরও বেশি সুইং আশা করেছিলেন মুশফিক। কিন্তু তার প্রত‍্যাশার চেয়ে সুইং ছিল বেশ কম। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ না নিয়ে ফেরেন মুশফিক।

শুরু থেকে লেগ স্লিপ রেখে বল করছিলেন তাবরাইজ শামসি। বিপদ বুঝে সেদিকে শট খেলছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ফাঁদেই পা দিলেন অভিজ্ঞ এই ব‍্যাটসম‍্যান। লেগে ঘুরানোর চেষ্টায় ধরা পড়লেন লেগ স্লিপে। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনারের বলে ব‍্যাটের কানায় লেগে আসা ক‍্যাচ হাতে জমান ইয়ানেমান মালান। ভাঙে ৮৭ বল স্থায়ী ৬০ রানের জুটি। কঠিন সময় পার করে দিয়ে বাজে শটে থামলেন মাহমুদউল্লাহ।

অসময়ে মাহমদুউল্লাহর বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে লড়াতে থাকেন আফিফ হোসেন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করে, ৭২ রানে থামেন আফিফ। রাবাদার বলে মারতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। মিড উইকেট অঞ্চলে বল উঠে যায় আকাশে। ক্যাচ ধরেন বাভুমা।

একই ওভারে পঞ্চম বলে ফিরলেন মিরাজও। শর্ট মিড অফে দারুণ ক্যাচ ধরেন মালান। মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ বলে ৩৮ রান। এই অসময়ে সপ্তম উইকেটে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে রেকর্ড জুটি গড়েন আফিফ-মিরাজ। দুজনে সপ্তম উইকেটে এখন পর্যন্ত যোগ করেন ৯১ বলে ৬১ রান।

এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৫৪। যা ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে মোহাম্মদ আশরাফুল-মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা করেছিলেন। ২ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শরিফুলও। মুস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলে দলীয় ১৯৪ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন তাসকিন আহমেদ।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*