অবশেষে মুসলিমদের ফিরিয়ে দিল ৫৫০ বছরের পুরাতন মসজিদ

১৯৪৭ সাল। হিন্দুস্থান বিভক্ত হল ভারত ও পাকিস্তানে। অনেকেই খুশওয়ান্ত সিংয়ের ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ হয়তো পড়েছেন। তাতে রয়েছে সেই খণ্ডচি’ত্রগুলি, যেখানে ভারতীয় পঞ্জাব থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান সব কিছু ছেড়ে শুধুমাত্র প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানে।

ট্রেনই একমাত্র পরিবহণ। কারণ কেউ যে হেঁটে বা গাড়িতে করে সীমান্তের ওপারে যাবে তার জো নেই। কারণ তলো’য়ার ও বন্দুক হাতে দা’ঙ্গাকারীরা সব সময় এই অসহায় মানুষগু’লির ওপর হ’ত্যা’লীলা চালানোর জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে। প্রহরী পুলিশ থাকলেও ট্রেনেও হা’ম’লার হাত থেকে রেহাই পায়নি।

এই দেশান্তরের ঘটনায় হাজার-হাজার মসজিদ পঞ্জাব ও হরিয়ানায় বিরান হয়ে পড়ে। শত-শত মসজিদ দখলও করে নেওয়া হয়। সেখানে পবিত্র এই মসজিদগুলিতে বসবাস, দোকান বা অন্য কাজে ব্যবহার করা হতে থাকে। কোথাও কোথাও বর্ষীয়ান শিখরা আল্লাহ্র ঘর মসজিদের মর্যাদা বিবেচনা করে সেখানে তালা লাগিয়ে দেন, যাতে অন্য কেউ মসজিদের বেহুরমতি করতে না পারে।

এরপর কেটে গেছে বহু বছর। দাঙ্গার আঁচ, ঘৃণা বি’দ্বেষ,পারস্পরিক খুনখারাবির স্মৃতি ক্র’মশ বিলিন হচ্ছে। যা হয়েছে তা নিয়ে এখন অনেকে মর্মাহত। লক্ষ্য করা গেছে, এ-ব্যাপারে ভারতের শিখ ধর্মাবলম্বীরা পুরনো দুঃখদায়ক ঘটনার যথাসম্ভব প্রতিকারে সবথেকে এগিয়ে। এমনকী, এ-বিষয়ে মুসলমানদেরও তারা বহু যোজন পিছিয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় সুলতানপুরের লোধিটাউনে ৫৫০ বছর পুরনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদ স্থানীয় মুসলিমদের হাতে তুলে দিয়েছে শিখ সম্প্রদায়। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এই মসজিদটি খুবই জরাজীর্ণ অবস্থায় বিরান পড়ে ছিল। শুধু ফিরিয়ে দেওয়াই নয়। শিখ সম্প্রদায় এই মসজিদটিকে পুরোপুরি মেরামত করে দিয়েছে।

অগ্রণী পদক্ষেপ নিয়ে শিখ সম্প্রদায় সংস্কার করায় মসজিদটিতে নামায আদায় করার জন্য স্থানীয় মুসলিম, আলেম ও সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ করেন যে, ‘আপনারা মসজিদটি পুনরায় উদ্বোধনের দিনটিতে এখানে আসুন এবং আল্লাহর কাছে ‘শুকরানা’ নামায আদায় করুন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *